ছাত্রলীগকে এমপি-মন্ত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করবেন না : কাদের - দৈনিক মুক্ত আওয়াজ
My title
জাতীয়

ছাত্রলীগকে এমপি-মন্ত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার করবেন না : কাদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক  : ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এমপি-মন্ত্রীদের স্বার্থ রক্ষার কাজের পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দ্বারে দ্বারে ঘুরবেন না। নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে লাভ নেই। ছাত্রলীগকে কোনো মন্ত্রী-এমপির স্বার্থ রক্ষার কাজের পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। এটা ছাত্রলীগের জন্য মঙ্গলজনক নয়।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘আমাদের জানার প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছ থেকে জানব। রাস্তায় বিদ্রোহ করে নেত্রীকে অপমান করবেন না। যোগ্যতা থাকলে মূল্যায়ন একদিন হবেই। ছাত্রলীগ যদি ভালো খবরের শিরোনাম হয় তাহলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের বিশ্বাসঘাতকতার ধারাবাহিকতা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা। ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একইসূত্রে গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বারবার। ২১ আগস্টের প্রধান টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। হামলার পরিকল্পনাকারী, মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বিএনপি নেতারা। হাওয়া ভবন থেকেই এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৫ আগস্টের খুনিদের নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়েছেন জিয়াউর রহমান। শুধু নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি। তাদেরকে বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য সংবিধানের কুখ্যাত ইনডেমনিটিকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে অর্ন্তভূক্ত করেছিলেন। মির্জা ফখরুলকে এই বিষয়ে একাধিকবার প্রশ্ন করেছি কিন্তু জবাব পাইনি। আপনার জবাব দেওয়ার সৎ সাহস নেই।’

কাদের বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কতভাবে জড়িত তা শুধু কর্নেল ফারুক ও রশিদের স্বীকারোক্তিতেই নয়, আরও অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। খুন করা, খুনে সহযোগিতা করা উভয়ই সমান অপরাধ। জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের সহযোগী, পুর্নবাসনকারী ও বিচারের পথ রুদ্ধকারী। এই ভূমিকা বিশ্বাসঘাতক জগৎশেঠ ও ইয়ার লতিফকেও হার মানায়।’

আওয়ামী লীগের এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘হত্যা হত্যাকে ডেকে আনে। বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের যদি বিচার করা হতো তাহলে ১৯৮১ সালের খুনিচক্র জিয়াউর রহমানকে হত্যার দুঃসাহস দেখাত না। যেই বুলেট শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনাকে এতিম করেছে। একই বুলেট বেগম জিয়া আপনাকে বিধবা করেছে। আমরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করিনি। তার আপন মানুষরাই তাকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে যে পথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদায় দিয়েছিল, সেই পথেই জিয়াউর রহমানকেও বিদায় নিতে হয়েছে। এসব সত্য ভুলে গেলে চলবে না।’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগাঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম। সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। সভায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Comment here