যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বগুড়ার হিরো আলম - দৈনিক মুক্ত আওয়াজ
My title
বিনোদন

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বগুড়ার হিরো আলম

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বগুড়ার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ হাজার টাকা বন্ডের বিপরীতে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার।

এর আগে গত ৬ মার্চ যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হন হিরো আলম। পরে ৭ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক আহমেদ শাহরিয়ার তারিক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হিরো আলমের স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুমিকে মারধরের অভিযোগে ৬ মার্চ বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন তাঁর (হিরো আলম) শ্বশুর সাইফুল ইসলাম।

হিরো আলমের বিরুদ্ধে করা মামলার সংক্ষিপ্ত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে শ্বশুর সাইফুল ইসলাম ৬ মার্চ হিরো আলমের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, হিরো আলম অনেক দিন ধরেই স্ত্রী সাদিয়ার কাছে যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মেয়ের জামাইকে এক লাখ টাকা দেন। কিন্তু গত ৫ মার্চ দুপুরে হিরো আলম আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর রেগে যান তিনি। এরপর চেলা কাঠের টুকরো দিয়ে তিনি স্ত্রী সুমিকে মারধর করেন। এ সময় সুমির চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে আহত সুমি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

হিরো আলমের আইনজীবী এস এম মাসুদার রহমান মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, হিরো আলমের স্ত্রী অন্যের কথা শুনে মামলা করেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে আলমের সঙ্গে সংসার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ কারণে আদালত হিরো আলমকে জামিন দিয়েছেন।

অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। ডিশ ব্যবসায়ী থেকে তারকা বনে যাওয়া হিরো আলমের দাবি ছিল, পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। অনেক আগে থেকেই ডিশের ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে তাঁর শ্বশুর পক্ষের লোকজন। এ জন্য যৌতুকের মিথ্যা অভিযোগ তুলে, স্ত্রীকে নির্যাতনের নাটক সাজিয়ে তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তা ছাড়া বিগত নির্বাচনে প্রশাসনের অনিয়ম ও ভোট চুরির প্রতিবাদ করেছিলেন, বড় বড় কর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। মামলায় ফাঁসানোর নেপথ্যে এসব বিষয়ও কাজ করেছে।

বগুড়া সদরের এরুলিয়া এলাকার কেবল-সংযোগ ব্যবসায়ী আশরাফুল হোসেন আলম। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ‘হিরো আলম’ নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এরপর গত সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে সারা দেশে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সুমি বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

Comment here