দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে টেনেহিঁচড়ে থানায় নেওয়া এসআই প্রত্যাহার - দৈনিক মুক্ত আওয়াজ
My title
সারাদেশ

দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে টেনেহিঁচড়ে থানায় নেওয়া এসআই প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় হাতকড়া পরিয়ে দুই সাংবাদিককে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে হয়রানি করার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিরঞ্জন রায়কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে বগুড়া পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে।

তবে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে গতকাল রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিন সন্ধ্যার দিকে বগুড়ায় দুই টিভি রিপোর্টারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন-সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মাজেদুর রহমান ও একাত্তর টেলিভিশনের বগুড়া প্রতিনিধি শাহজাহান আলী। পরে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাদের হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। পরে তারা থানা থেকে চলে যান।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিনা অপরাধে কোনো সাধারণ মানুষকেও হাতকড়া লাগানো বেআইনি। দুই সাংবাদিককে হাতকড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে আসার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে এসপি স্যারের নির্দেশে উপপরিদর্শক নিরঞ্জন রায়কে বগুড়া সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

হয়রানির শিকার মাজেদুর রহমান জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণে কর্মহীন তিনটি অসহায় পরিবারকে চাল-ডালসহ কিছু খাবার দিতে তারা দুজনে দুটি মোটরসাইকেলে কালিতলা এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় চেলোপাড়া থেকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালিয়ে সাদাপোশাকে থাকা সদর থানার উপপরিদর্শক নিরঞ্জন রায় উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজিয়ে সদর থানার দিকে যাচ্ছিলেন। বিনা কারণে এমন শব্দ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করায় তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয় থানা মোড়ে দায়িত্বরত সদর থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম মোস্তফার কাছে। এতে এএসআই মোস্তফা ক্ষুব্ধ হন।

একপর্যায়ে মুঠোফোনে গোলাম মোস্তফা এসআই নিরঞ্জনকে ডেকে আনেন। এরপর তারা চড়াও হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে তাদের দুজনের হাতে হাতকড়া লাগান। এ সময় নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য দিয়ে তারা টেনেহিঁচড়ে সদর থানায় তোলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান থানায় আসার পর তাদের হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে এসআই নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শহরের দোকানপাট বন্ধে দোকানিদের সতর্ক করার জন্য মোটরসাইকেলে সাইরেন বাজিয়ে চেলোপাড়া থেকে ফিরছিলাম। সদর থানার আবাসিক কোয়ার্টারে ঢোকার পরপরই এএসআই গোলাম মোস্তফা ফোনে বলেন, ‘‘মোটরসাইকেলে শহরে বের হওয়া দুজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।’’ পরে কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে ওই দুই সাংবাদিককে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা পরিচয় দেননি। পরে থানায় যেতে বললে তাতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে সঙ্গে থাকা কনস্টেবলদের দিয়ে হাতকড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিই। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিলে এমনটা ঘটত না।’

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘সামান্য ভুল–বোঝাবুঝি থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি থানায় আসার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

Comment here